রাসায়নিক কীটনাশক পরিহার করে ধান ক্ষেতে সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধান ক্ষেতে আলোক ফাঁদ ও কঞ্চি স্থাপন করতে হবে। শতাংশ প্রতি কমন কার্প-১০টি ও নালোটিকা-১০টি মোট ২০টি পোনা মজুদ করা যেতে পারে।
৭.৫-৮.৫
প্রতি শতাংশে ২০০ গ্রাম ইউরিয়া প্রয়োগ করা উচিত
প্রতি শতাংশে ১৫০ গ্রাম চুন প্রয়োগ করা উচিত
দো-আঁশ মাটি
পুকুর প্রস্তুতির সকল নিয়ম পালন পূর্বক পুকুরে পুণ: পোনা মজুদ করতে হবে।
বর্তমানে বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে চাষিগণ নিজেরাই বাড়িতে গুণগতমানসম্পন্ন পিলেট খাদ্য তৈরি করে থাকেন। প্রতিদিন ১টন খাদ্য তৈরি করতে পারে এমন পিলেট মেশিনের দাম ২০- ২৫ হাজার টাকার মত। খাদ্যের মিশ্রণ হিসেবে খৈল, কুড়া, ভূঁসি, মিনারেল ও চেওয়া শুটকির গুড়া ব্যবহার করা হয়ে থাকে। চেওয়া শুটকি চট্রগ্রাম থেকে কিনে আটার মেশিনে গুড়া করে নিতে হবে। এরপর পিলেট খাদ্য তৈরি করতে হবে। এইভাবে প্রস্তুতকৃত খাদ্য গুণগতমানসম্পন্ন হয়।
একজন নতুন চাষির ক্ষেত্রে কার্প জাতীয় মাছের চাষ / তেলাপিয়ার একক চাষ করা অধিক যুক্তিযুক্ত। এতে লোকসানের সম্ভবনা নেই।
নমুনা সংগ্রহের মাধ্যমে মাছের মজুদ নির্ণয় করে পুকুরের মাছের দেহের ওজনের ৩-১০% বিভিন্ন প্রজাতি ও মাছের আকারের উপর নির্ভর করে খাদ্য প্রদান করতে হবে।
আহরণের পর মাছ ও পাত্রটি পরিস্কার করে বরফ মিশ্রিত করে রাখতে হবে যাতে মাছের গুণগতমান নষ্ট না হয়, এরপর মাছের পাত্রটি ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব বাজারজাত করণের ব্যবস্থা নিতে হবে। যে সকল মাছ জীবিত অবস্থায় বাজারজাত করতে হয় সে সকল মাছ ধরার পূর্বে পানিপূর্ণ ড্রামসহ গাড়ী ও মাছ ধরার জন্য জেলে ঠিক রাখতে হবে যাতে দ্রুততম সময়ে বাজারজাত করা যায়।
নার্সারী পুকুরে জু-প্লাংটন বেশি থাকা ভাল, কারণ সকল প্রজাতির মাছের পোনা ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত শুধু জু-প্লাংটন খায়।
পানিতে জু-প্লাংটন বেশি হলে পানির রং বাদামী সবুজ হয়ে থাকে।
কোন পুকুরে একটি প্রজাতির মাছ চাষকে MonoCultureবলা হয়।
পুকুরের যে পরিমাণ মাছ মজুদ করা হয়েছে (প্রত্যেক প্রজাতি হতে) তার কমপক্ষে ১০% মাছ বের জাল দ্ধারা ধরে ওজন করে প্রত্যেক প্রজাতির মাছের গড় ওজন নির্ণয় করতে হবে। মজুদকৃত মাছের ৯০% জীবিত ধরে প্রত্যেক প্রজাতির মাছের মোট সংখ্যার সাথে গড় ওজন গুণ করে মাছের প্রজাতি ভিত্তিক মাছের ওজন বের করতে হবে। এইভাবে প্রত্যেক প্রজাতির মাছের ওজন বের করে সকল প্রজাতির মাছের ওজন যোগ করে মাছের মোট ওজন নির্ণয় করা যায়।
উপজেলা মৎস্য দপ্তরে যোগাযোগের মাধ্যমে পানির হার্ডনেস পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তবে নিয়মিত ভাবে মাছকে সম্পুরক খাদ্য প্রয়োগ করতে হবে।
শেষ রাতের দিকে পানিতে অক্সিজেন স্বল্পতার কারণে পুকুরের সমস্ত মাছ মারা যেতে পারে।
সেকি ডিক্সের মাধ্যমে পানিতে প্রাকৃতিক খাদ্যের পরিমাপ করা যায়। ঠিক দুপুর বেলায় ডেকি ডিক্স ১০ ইঞ্চি পরিমাণ ডুবানোর পর চাকতি-টি দেখা না যায় তাহলে বুঝা যাবে পানিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রাকৃতিক খাবার আছে।
শীতের শুরুতে মাছ ধরে ফেলতে হবে, মাছের ঘনত্ব কমাতে হবে; প্রতি শতকে ১ কেজি হারে চুন দিতে হবে।
স্থানীয় মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। এ ছাড়াও মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন মাছ চাষে পরামর্শ Linkএ বিভিন্ন রকমের মাছের চাষ ও প্রাক্কলন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরির ব্যবস্থা আছে। এ সুবিধা গ্রহণ করা যেতে পারে। মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েব ঠিকানা www.fisheries.gov.bd
স্থানীয় মৎস্য অফিসে যোগাযোগ করতে হবে। স্থানীয় মৎস্য সম্প্রসারণ কর্মীর সহায়তা নেয়া যেতে পারে। এছাড়াও এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে বিভিন্ন মাছ চাষে পরামর্শ Link এ বিভিন্ন রকমের মাছের রোগ ও প্রতিকারের উপায় দেয়া আছে। এ সুবিধা গ্রহণ করা যেতে পারে। মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েব ঠিকানা www.fisheries.gov.bd
সিলভার কার্পের মজুদ বৃদ্ধি করা যেতে পারে। তবে সবুজ স্তর তুলে ফেলাই উত্তম।
ফেরিওয়ালাদের সহিত যোগাযোগ বাড়াতে হবে । উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ রাখতে হবে যাতে কোন চাষির পোনার প্রয়োজন হলে নার্সারীর ঠিকানা মৎস্য অফিস থেকে চাষিগণকে দিতে পারে । পোনাকে অধিক ঘনত্বে রাখার পর পরের বছর (Over wintering) পোনা মাছ বিক্রির ক্ষেত্রে ভাল মূল্য পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে মূল আইন ও বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে, ওয়েবসাইট থেকে ডাউন লোড করা যেতে পারে। মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েব ঠিকানা www.fisheries.gov.bd, এছাড়াও জেলা ও উপজেলা মৎস্য অফিস থেকেই এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে মূল আইন ও বিধিমালা প্রকাশ করা হয়েছে, ওয়েবসাইট থেকে ডাউন লোড করা যেতে পারে। মrস্য অধিদপ্তরের ওয়েব ঠিকানা www.fisheries.gov.bd, এছাড়াও জেলা ও উপজেলা মrস্য অফিস থেকেই এ বিষয়ে তথ্য পাওয়া যাবে।
বিল-নার্সারী/মুক্তজলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তির সময় উপজেলা মৎস্য অফিস পোনা ক্রয়ের জন্য টেন্ডার আহবান করে থাকে। ঐ সময়ে চাষি টেন্ডারে অংশ গ্রহণ করতে পারে।
প্রতি শতাংশে ২ ধাপ পদ্ধতিতে ৪০-৫০ গ্রাম হারে রেণু মজুদ করা যেতে পারে। এই পদ্ধতিতে ১০দিন পর কাটাই করে চারা পুকুরে ধানী স্থানান্তর করতে হবে।
১ম সপ্তাহে মজুদকৃত রেণুর ওজনের ২গুণ; ২য় সপ্তাহে মজুদকৃত রেণু ওজনের ৩গুণ; ৩য় সপ্তাহ পর কাটাব করে কাটাই পুকুরে মজুদকৃত পোনার ওজনের ৫-৮% হারে খাবার প্রদান করতে হবে
থানায় জিডি করা যেতে পারে। থানার পরামর্শ অনুসারে মাছ, পানি, কাদার নমূনা সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে থানা ব্যবস্থা নিতে পারে।
উপজেলা মৎস্য অফিসে পানির পিএইচ পরীক্ষা করার ব্যবস্থা আছে। চাষি উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে পিএইচ মাপতে পারে, এ ছাড়াও পিএইচ মিটার বা পিএইচ পেপার নিজে কিনেও নির্ণয় করা পারে।
কার্প জাতীয় মাছের ১০০০-১৫০০ টি ধানি পোনা / শতকে মজুদ করা যাবে।
মাছের খাবারের অভাবে এমন হতে পারে, এ ক্ষেত্রে সম্পুরক খাদ্য দেহ ওজনের ৩-৫% হারে পুকুরে দৈনিক নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট স্থানে সুষম সম্পুরক খাবার প্রয়োগ করতে হবে।
গভীর/অগভীর নলকূপের মাধ্যমে পানির গভীরতা বাড়াতে হবে, তবে পানির গভীরতা না কমার জন্য বেশী পরিমাণের জৈব সার ব্যববহার করে পানির ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে হবে।
হ্যাঁ, এটা ক্ষতিকর। খাদ্য ও সার সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হবে। জৈবিকভাবে সিলভার মাছ ছেড়ে দমন করা যায়।
বেশি পরিমানে কম্পোস্ট সার ব্যবহার অথবা দোঁয়াশ মাটির স্তর দেওয়া যেতে পারে ।
অতিরিক্ত শামুক ক্ষতিকর, শামুক মাছের সাথে খাদ্যের প্রতিযোগিতা করে। পুকুর সংস্কার করে শামুক দমন করা যেতে পারে, পুকুরে ব্লাক কার্প মজুদ করেও শামুক দমন করা যায়।
জাল টেনে প্রতি ঘন মিটার পানির জন্য ১.০ গ্রাম হারে তুঁতে প্রয়োগ করে মাছের সাদা দাগ রোগ দুর করা যায়।
উন্নত সনাতনী ও আধা নিবিড় পদ্ধতিতে প্রতি শতাংশে ৫ কেজি কম্পোষ্ট , ১৫০ গ্রাম ইউরিয়া, ৭৫ গ্রাম টি.এস.পি গুলে সমস্ত পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে। বৃষ্টি অথবা মেঘলা আবহাওয়ায় পানি অতিরিক্ত সবুজ থাকলে পুকুরে সার প্রয়োগ করা যাবে না। তবে সম্ভব হলে মাটি পরীক্ষা করে যে উপাদান কম আছে সে উপাদান প্রয়োগ করা যেতে পারে।
পুকুর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, পানির বিভিন্ন ভৌত ও রাসায়নিক গুণাবলী যেমন- অক্সিজেন, পিএইচ ইত্যাদি মাছ চাষের অনুকুলে রাখা, শীতের শুরুতেই প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করা, মজুদ ঘনত্ব খুব বেশী হলে আংশিক আহরণের মাধ্যমে মাছের ঘনত্ব কমিয়ে ফেলা, সঠিক পরিমাণে সুষম সম্পুরক খাদ্য প্রয়োগ করা।
জাল টেনে মাছ ধরে ০.৫ মি.গ্রা./লিটার পানিতে পটাসিয়াম পারমাঙ্গানেট দ্রবণে মাছগুলোকে ৫মিনিট গোসল করিয়ে পুকুরে ছেড়ে দিতে হবে। সার প্রয়োগ আপাতত বন্ধ রাখতে হবে।
পুকুরের পরিবেশ দূষণের ফলে মাছ দূর্বল হয়ে গেলে পরজীবী জীবাণু দ্ধারা আক্রান্ত হয়ে মাছ রোগের সৃষ্টি হয়।
মাছ অস্বাভাবিক সাঁতার কাটে, খাদ্য গ্রহণে অনীহা দেখা যায়, আক্রান্ত মাছের লেজ ও পাখনা খসে পড়ে, মাছের গায়ে লাল দাগ দেখা যায়, মাছের গায়ে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
পাট জাগ দেয়া পুকুরের পানি কালো ও গন্ধ হয়ে থাকে। প্রথমে পুকুরে শতাংশ প্রতি ১ কেজি হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে এবং পাট জাগ তোলার পর পুকুরে শতাংশ প্রতি ৮০-১২০টি তেলাপিয়া/শিং-মাগুর মাছের চাষ করা যাতে পারে।
ক্ষতিকর নয়; এ ক্ষেত্রে দেশীয় প্রজাতির শিং-মাগুর মাছের পোনা শতাংশে ২৫০-৩০০ টি ছাড়া যেতে পারে। যে কোন মাছের চাষ করা যাবে।
কালো কাঁদা অপসারণ করতে হবে। পানি বদল করে শতাংশে ২৫০-৩০০ গ্রাম চুন প্রয়োগ করতে হবে। ৪-৫ দিন ঘেরে খাবার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। ৪-৫ দিন পর পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে।
ঘেরের তলদেশের পঁচা কাদা মাটি তুলে ফেলতে হবে। ঘেরের পানির গভীরতা ৩-থেকে ৫ ফুট বাড়াতে হবে। ঘেরের পানির ভৌত ও রাসায়নিক গুণাগুণ সঠিক মাত্রায় রাখতে হবে।
পানি বাড়িয়ে বা পরিবর্তন করে দিতে হবে। শতাংশ প্রতি ২৫০ গ্রাম চুন দিতে হবে। চুন দেয়ার ৩ দিন পর শতাংশ প্রতি ৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার দিতে হবে।
তলায় অতিরিক্ত কাঁদা ও পঁচা কালো কাঁদা অপসারণ করতে হবে। অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োগ করা যাবে না। ঘেরে অতিরিক্ত খাদ্য না পঁচে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রতি শতাংশে ১০০ গ্রাম জিওলাইট ব্যবহার করা যেতে পারে।
জুভেনাইল অবস্থায় স্ত্রী ও পুরুষ বাছাই করে পৃথক পৃথক পুকুরে চাষ করতে হবে। এই পুকুরে স্ত্রী ও পুরুষ গলদা চাষ না করা উৎপাদনের দিক থেকে উত্তম। গলদা চিংড়ির পুকুরে সুষম সম্পুরক খাদ্য ( ফিস মিল, সরিষার খৈল, আটা, পলিশ কুড়া, চিটাগুড়, খনিজ লবণ, ভিটামিন পিমিক্স ) প্রয়োগ করতে হবে। যৌবন প্রাপ্ত অবস্থায় স্ত্রী ও পুরুষ গলদা একে অপরের প্রতি আকর্ষণের কারণে খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা কম থাকে বিধায় বৃদ্ধি কম হয়।
ঘেরে পর পর ৬দিন অজৈব সার (শতাংশে ৪ গ্রাম ইউরিয়া ও ৪ গ্রাম টি এস পি) ব্যবহার করতে হবে। ঘেরে পানির রং প্রথমে সবুজ পরে বাদামী রং হলে সার দেয়া বন্ধ করতে হবে। পানির রং পরিস্কার ও ফ্যাকাশে হলে নতুন করে সার প্রয়োগ করে খাবার তৈরি করতে হবে। হাত দিয়ে অথবা সেকি ডিক্স দিয়ে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা করতে হবে।
বাগদা চিংড়ির পিএল সরাসরি ঘেরে মজুদ করা যাবে না। বাগদা চিংড়ির পিএল ঘেরে মজুদের পূ্র্বে ২১ দিন নার্সারীতে লালন পালন করতে হবে। নার্সারীতে উrপাদিত কিশোর চিংড়ি (৩-৫) ফুট গভীরতায় মজুদ ঘেরে লালন পালন করতে হবে। বাগদা চিংড়ি চাষ জৈবিক পদ্ধতিতে করতে হবে।
গলদা চাষে এক লিঙ্গের চিংড়ি চাষ করা উচিত। পুরুষ গলদা হলে শতকে ৮০টি এবং স্ত্রী গলদা হলে শতকে ১৬০টি জুভিনাইল মজুদ করা যেতে পারে। (ব্যবস্থাপনা ভেদে মজুদ ঘনত্ব তারতম্য হতে পারে)
হ্যাঁ উপকারী, এতে চিংড়ি একে অন্যকে আক্রমণ করেতে পারে না।
পুকুরে পরিস্কার পানি প্রবেশ করাতে হবে; প্রতি শতকে ২৫০ গ্রাম জিওলাইট প্রয়োগ করতে হবে; খাবারে ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ উপাদান বাড়িয়ে দিতে হবে
পোনার জন্য খেজুরের পাতা দ্ধারা আশ্রয়স্থল স্থাপন করতে হবে; সুস্থ-সবল পোনা ছাড়তে হবে; পোনাকে ভালোভাবে খাপ খাওয়ানোর পর নার্সারীতে মজুদ করতে হবে
ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগের ৪-৫ দিন পর প্রতি শতাংশে চিটাগুড় ২০০ গ্রাম, রাইচ পলিশ ২০০ গ্রাম, ইষ্ট ৫ গ্রাম। এক সাথে ভিজানোর পর ২৪ ঘন্টা রাখার পর ঘেরে প্রয়োগ করতে হবে। সার প্রয়োগের পর প্রতিদিন ৬-৭ বার পানি ঘোলা করতে হবে।
মজুদকালীন সময়ে সম আকার ও বড় সাইজের রোগ মুক্ত চিংড়ি মজুদ করতে হবে। ক্যালসিয়াম ও পুষ্টিসমৃদ্ধ চাহিদামত খাদ্য ৩-৪ বার আশ্রয়স্থল ও কিনারায় দিতে হবে এবং পুকুরে পানির প্রবাহ রাখতে পারলে ভাল ফলাফল পাওয়া যায়।
নার্সারীর জায়গা ঘের থেকে আলাদাকরণ; নার্সারী শুকানো; কালো কাদা অপসারণ; পাড় মেরামত; পাড় উচুকরণ; পাড়ের চারিদিকে নেটের বেড়া দেয়া; পানি উঠানো; ২-৩দিন পর শতাংশে ৬০০-৭০০ গ্রাম হারে ব্লিচিং পাউডার প্রয়োগ করা যেতে পারে।
উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে প্রতি শতাংশে ৮০-১০০টি বাগদা পোনা মজুদ করা যেতে পারে
শতাংশে গলদা পোনা-৪০টি, কাতলা-০৫টি, সিলভার কার্প ৫টি, (যদি ঘাস থাকে তবে ১০ শতাংশে ১টি গ্রাস কার্প) মজুদ করা যেতে পারে)।
পানির গভীরতা ৩ফুট থাকতে হবে, আগাছা পরিস্কার করতে হবে, গলদা ঘেরে প্রতি শতাংশে ইউরিয়া ৭৫ গ্রাম এবং টিএসপি ১৫০ গ্রাম, বাগদা ঘেরে প্রতি শতাংশে ইউরিয়া ১৫০ গ্রাম এবং টিএসপি ৭৫ গ্রাম হারে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
ঘের শুকাতে হবে, কালো কাদা অপসারণ করতে হবে, পাড় মেরামত করতে হবে, চুন প্রয়োগ করার পর সার প্রয়োগ করতে হবে।
একর প্রতি ৮০০০-১০০০০ টি পি-এল , চাষ ব্যবস্থাপনার উপর মজুদ ঘনত্ব কম বেশী হতে পারে।
না, এক বারেই না।
হঠাৎ লবণাক্ততা কমে যায় এবং দূষিত পানি প্রবেশ করার কারণে চিংড়ি মারা যায়।
৩০-৩৫% প্রোটিন সমৃদ্ধ পিলেট জাতীয় খাবার প্রদান করতে হবে।
কমপক্ষে ৩ ফুট
আহরণের পর চিংড়ি পরিস্কার করে ১টি পাত্রে বরফ মিশ্রিত পানিতে রাখতে হবে যাতে চিংড়ি দ্রুত মারা যায় এবং ক্ষত না হয়, এরপর পাত্রটি ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে, যত দ্রুত সম্ভব বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
প্রতি বিঘার জন্য ১লিটার কেরোসিনের সাথে ১ কেজি বল সাবান গুলে পুকুরে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
সাধারণত: নার্সারী পুকুরকে ভালভাবে প্রস্তুত পূর্বক এক ধাপ পদ্ধতিতে প্রতি শতকে ১২-১৫ গ্রাম এবং দুই ধাপ পদ্ধতিতে ২৫-৩০ গ্রাম হারে রেণু মজুদ করতে হবে। প্রত্যেক প্রজাতির রেণু ভিন্ন ভিন্ন পুকুরে ছাড়াই উত্তম। রেণু সকাল অথবা বিকালে খাপ খাওয়ায়ে ছাড়া যেতে পারে। তবে রেণুর ঘনত্ব ব্যবস্থাপনার উপর নির্ভরশীল।
পুকুরের তিন স্তরে প্রতি শতাংশে ৫/৬ প্রজাতির ৪০-৬০টি কার্প জাতীয় মাছের ১০-১৪ সেমি. আকারের পোনা ছাড়া যেতে পারে, তবে ব্যবস্থাপনার উপর মজুদ ঘনত্ব কম বেশী হতে পারে।
প্রতি ১০০ কেজি মাছের জন্য ৩-৫ কেজি হারে খাদ্য দিতে হবে। খাদ্য হিসেবে খৈল, কুড়া, ভূঁসি ও ফিস মিল দিয়ে পিলেট তৈরি করে ব্যবহার করা যেতে পারে
প্রথমত: পাড় মেরমত পর ২৫-৩০ গ্রাম/শতক/ফুট পানিতে রোটেনন দিয়ে বা পুকুর শুকিয়ে রাক্ষুসে মাছ দূর করতে হবে। পানি দেয়ার পর প্রতি শতাংশে ১ কেজি হারে পাথুরে চুন দিয়ে ৭ দিন পর ১৫০ গ্রাম ইউরিয়া সার ও ৭৫ গ্রাম টি,এস,পি এবং ৫ - ৭ কেজি হারে জৈব সার প্রতি শতাংশে প্রয়োগ করতে হবে, ৭ দিন পর পুকুরে পোনা ছাড়ার উপযোগী হবে। প্রতি ৩ বৎসর অন্তর পুকুর শুকাতে হবে এবং তলার কাদা অপসারণ করতে হবে।
তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রী সেলসিয়াস বৃদ্ধি হলে পানির অক্সিজেন দ্রুত নি:শেষ হয়ে বাগদা মারা যায়।
নির্ধারিত কিছু সরকারী মৎস্যবীজ উৎপাদন খামারে ভাল মানের পিএল/জুভেনাইল পাওয়া যায়, এ ছাড়াও বেসরকারী খামারেও পোনা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে স্থানীয় উপজেলা মৎস্য অফিসের সাথে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
পুকুরে চিংড়ি থাকা অবস্থায় ২৫০ গ্রাম/শতকে চুন প্রয়োগ করা যেতে পারে। চিংড়ি ধরার পর তলার কালো কাঁদার স্তর তুলে ফেলতে হবে।
২৫০-৩০০ টি /শতকে মনোসেক্স তেলাপিয়ার পোনা মজুদ করা যাবে। ব্যবস্থাপনার উপর ভিত্তি করে তেলাপিয়ার সাথে কার্প মাছও ছাড়া যায়।
পানিতে অক্সিজেনের অভাবে মাছের এ অবস্থা দেখা যায়। পুকুরের পানিতে বাঁশ পিটিয়ে বা সাঁতার কেটে পানি নাড়ানো অথবা অক্সিজেন সরবরাহকারী ঔষধ যেমন; অক্সিফ্লো/অক্সি-এ ২৫০ গ্রাম হারে প্রতি একরে প্রয়োগে ভাল ফল পাওয়া যায়
প্রতি বিঘার জন্য ১ লিটার কেরোসিনের সাথে ১ কেজি বল সাবান গুলে পুকুরে প্রয়োগ করার পর ২ সপ্তাহ পর আরও একবার পুণ:প্রয়োগ করা যেতে পারে।
মাছ নমুনায়ন করে পুকুরে মাছের ওজন জানার পর প্রতি ১০০ কেজি মাছের জন্য ৩.৫ কেজি হারে ভাসমান খাবার প্রয়োগ করা যেতে পারে।
যে কোন ডুবন্ত খাদ্যের একটা বড় অংশ মাটির সাথে মিশে যায় যা মাছ সরাসরি খেতে পারে না, কিন্তু ভাসমান খাদ্য প্রয়োগ করলে মাছ সমূদয় খাদ্য খেতে পারে এতে খাদ্যের অপচয় হয় না।
মাছের খাদ্য সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উপকরণ ফিস মিল বা শুটকির গুড়া এর তারতম্যের জন্য এফসিআর এর মানের পরিবর্তন হয়ে থাকে।
প্রাকৃতিক খাদ্যের পরও বাড়তি ফলনের জন্য মাছকে বাহির থেকে যে খাদ্য প্রদান করা হয়ে থাকে, তাকে সম্পুরক খাদ্য বলা হয়।
FCR নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ১ কেজি মাছ উৎপাদন করতে কত কেজি খাবার ব্যবহার করা হয়েছে তার অনুপাতকে বুঝায়। FCR সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়। ধরা যাক ১ কেজি মাছ উৎপাদনে যদি ২ কেজি খাবারের প্রয়োজন হয় তবে FCR হবে ০.৫।
অভিযোগ মোবাইল কোর্টে নিষ্পত্তি করা যাবে; প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বিচারিক আদালতে নিয়মিত মামলা দায়ের করা যাবে।
পুকুর ইজারা নেয়ার জন্য এসি ল্যান্ড অফিসে খোজ নেয়া যেতে পারে। আবেদনের মাধ্যমে নতুন নীতিমালার অধীনে মৎস্যজীবীগণ ইজারা গ্রহণ করতে পারেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তবে তারা কৃষি বিষয় পাঠ্যক্রম থেকে সম্পুরক জ্ঞান লাভ করতে পারে। মাছ চাষ বিষয়ক পুস্তিকা, লিফলেট, বুকলেট, পোষ্টার ইত্যাদি সম্প্রসারণ সামগ্রী থেকে জ্ঞান লাভ করতে পারে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করে ঋণ গ্রহণ করা যেতে পারে। এ ছাড়া উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে ক্ষুদ্র ঋণ গ্রহণের জন্য যোগাযোগ করা যেতে পারে।
উপজেলা মৎস্য অফিসারের বরাবরে স্থানীয় সরকার প্রধানের সুপারিশসহ আবেদন করবে; ; দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা খামার পরিদর্শন পূর্বক সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন এবং ফান্ড থাকা সাপেক্ষে ঊধ্বর্তন কতৃর্পক্ষের নিকট চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করবে।
উপজেলা মৎস্য অফিসারের বরাবরে প্রযুক্তি উল্লেখ পূর্বক প্রদর্শনী স্থাপনের জন্য আবেদন করবে; দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা মৎস্য অফিসে বিভিন্ন চাষ বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। তাছাড়া উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসেও মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়, উল্লিখিত অফিসে যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ পাওয়া যেতে পারে।
পানিতে অ্যামেনিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। প্রতিকারের জন্য হররা টানতে হবে, পুকুরে পানি সরবরাহ করতে হবে, খাদ্য প্রয়োগ আপাতত: বন্ধ রাখতে হবে। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে বিঘা প্রতি ৫ কেজি টিএসপি ব্যবহার করে ভাল ফল পাওয়া গেছে।
পুরাতন পানি বের করে নতুন পানি সরবরাহ করতে হবে, পাংগাসের খাদ্যের সাথে ভিটামিন সি ও অক্সিটেট্রাসাইক্লিন সিদ্ধ আটার সাথে মিশিয়ে পিলেট খাবার তৈরি করে মাছকে খাওয়াতে হবে।
০.৫ পিপিএম পটাশিয়াম পামাঙ্গানেট যুক্ত পানিতে মাছকে গোসল করাতে হবে, পুকুরে সাময়িকভাবে সার প্রয়োগ বন্ধ রাখতে হবে। এ বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে মাছ চাষে পরামর্শ Link-এ বিভিন্ন রকমের মাছের রোগ ও প্রতিকারের উপায় দেয়া আছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ সেবা গ্রহণ করা যেতে পারে।
পরিবহনের সময় সতর্ক ও সহনীয় মাত্রায় মজুদ ঘনত্ব রেখে পরিবহন করতে হবে। পরিবহনের সময় ১০০লি: পানিতে ১ গ্রাম স্যালাইন দিয়ে পরিবহন করা ভাল। শিং মাছের ব্যাপক মড়কের জন্য অক্সিটেট্রাসাইক্লিন ১০০ পিপিবি হারে পর পর তিনদিন ব্যবহার করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।
শিং মাছকে কমপক্ষে ৩০-৩৫% প্রোটিনযুক্ত পিলেট খাবার প্রদান করতে হবে। দেহ ওজনের ৫-৭% খাদ্য প্রতিদিন সন্ধ্যায় ও ভোরে প্রয়োগ করতে হবে। ভাসমান পিলেট খাবার প্রয়োগ করলে অপচয় রোধ হবে।
বেশি পরিমানে পোনার প্রয়োজন হলে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, নাটোর, পাবনা ও যশোরে পোনা পাওয়া যাবে। অল্প পরিমাণে প্রয়োজন হলে হাওড় ও বিল এলাকা থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে।


